পবিত্র ওমরাহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন: -

ওমরাহ কী? কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ওমরাহ প্রতিটি মুসলমানের জীবনের এক আকাঙ্ক্ষিত ইবাদত। ওমরাহ হল মক্কায় বাইতুল্লাহ (কাবা শরীফ) জিয়ারত করে তাওয়াফ, সাঈ ও মাথা মুণ্ডন করা। এটি “ছোট হজ” নামেও পরিচিত। ওমরাহ সুন্নত মুয়াক্কাদাহ এবং সারা বছর (হজের দিন ছাড়া) করা যায়।

যেহেতু, হজের মতো এটি নির্দিষ্ট সময়ে বাঁধা নয়—বছরের যেকোনো সময় পবিত্র মক্কা ও মদিনায় গিয়ে ওমরাহ পালন করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ করতে চাইলে ভিসা, টিকা, বায়োমেট্রিক থেকে শুরু করে মক্কায় গিয়ে প্রতিটি রুকন সঠিকভাবে আদায়—সবকিছু ধাপে ধাপে জানা থাকা জরুরি।

  • ইহরাম বাঁধা (নিয়তসহ)
  • কাবা শরীফের তাওয়াফ (৭ চক্কর)
  • সাফা-মারওয়া সাঈ (৭ বার)
  • মাথা মুণ্ডন/চুল ছোট করা

“এক ওমরাহ থেকে আরেক ওমরাহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারা।”

— সহীহ বুখারী (১৭৭৩), সহীহ মুসলিম (১৩৪৯)

 

“রমজানে ওমরাহ করা আমার সাথে হজ করার সমান।”

— সহীহ বুখারী (১৮৬৩)

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (এক নজরে)

বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ ভিসা করার নিয়ম

বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ ভিসা সাধারণত অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমেই করা হয়। ব্যক্তিগতভাবে আলাদা করে ভিসার আবেদন করা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।

ওমরাহ প্যাকেজ মূল্য তালিকা

কি কি পাবেন আমাদের এই প্যাকেজে -

প্যাকেজভেদে সেবার গুণগত মান পরিবর্তন হবে।  উল্লিখিত প্যাকেজ মূল্য সময়ভেদে পরিবর্তন হতে পারে – বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন। 

ওমরাহর ধাপে ধাপে নিয়ম ও আমল

প্রথমবার ওমরাহকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস
  • ওমরাহর নিয়ম আগে থেকেই শিখে নিন
  • আরামদায়ক পোশাক ও জুতা ব্যবহার করুন
  • ভিড়ের সময় ধৈর্য ধরুন
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • গাইডের নির্দেশনা মেনে চলুন

১. ইহরাম বাঁধা (মীকাত থেকে)

মীকাত (ঢুল হুলায়ফা/জুহফা/কারনুল মানাজিল) থেকে ইহরাম বাঁধুন। পুরুষরা সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড়, মহিলারা সাধারণ পোশাক (মুখ খোলা)। গোসল করুন, নিয়ত করুন:
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ عُمْرَةً
উচ্চারণ:"লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা উমরাতান" (হে আল্লাহ! আমি ওমরাহর জন্য হাজির)

২. তালবিয়া পড়া

ইহরাম বাঁধার পর থেকে তাওয়াফ শুরু পর্যন্ত তালবিয়া পড়তে থাকুন:
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
উচ্চারণ: "লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক"

৩. মসজিদুল হারামে প্রবেশ

ডান পা দিয়ে প্রবেশ করুন। দোয়া পড়ুন: "বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আল্লাহুম্মাফতাহ লী আবওয়াবা রাহমাতিক"

৪. তাওয়াফ (৭ চক্কর) - ফরজ

হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) থেকে শুরু করে কাবা ঘরের ৭ চক্কর দিন। প্রতিটি চক্করে হাজরে আসওয়াদ বরাবর "বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার" বলুন। ইজতিবা (পুরুষদের ডান কাঁধ খোলা) ও রমল (প্রথম ৩ চক্করে দ্রুত হাঁটা) করুন। রুকনে ইয়ামানী থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত পড়ুন: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

৫. মাকামে ইব্রাহীমে ২ রাকাত নামাজ

তাওয়াফ শেষে মাকামে ইব্রাহীমের পেছনে ২ রাকাত নামাজ পড়ুন (সম্ভব না হলে যেকোনো জায়গায়)। প্রথম রাকাতে সূরা কাফিরুন, দ্বিতীয়তে সূরা ইখলাস পড়ুন।

৬. জমজমের পানি পান

জমজমের পানি পান করুন। দাঁড়িয়ে, কিবলামুখী হয়ে, বিসমিল্লাহ বলে পান করুন। দোয়া করুন।

৭. সাফা-মারওয়া সাঈ (৭ বার) - ওয়াজিব

সাফা পাহাড় থেকে শুরু করে মারওয়া পর্যন্ত ৭ বার যাতায়াত করুন (সাফা→মারওয়া = ১, মারওয়া→সাফা = ২...)। সবুজ বাতির মধ্যে পুরুষরা দ্রুত দৌড়াবেন। প্রতিবার সাফা ও মারওয়ায় উঠে কাবামুখী হয়ে দোয়া করুন।

৮. মাথা মুণ্ডন/চুল ছোট করা - ওয়াজিব

পুরুষরা মাথা মুণ্ডন (হালক) বা চুল ছোট (কসর) করবেন - মুণ্ডন উত্তম। মহিলারা চুলের আগা এক আঙ্গুল পরিমাণ কাটবেন। এতে ইহরাম থেকে মুক্তি (হালাল) হবে।